ইবির দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি এবং ছাত্রকে মারধর, থানায় মামলা
ইবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৫; আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩৭
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি এবং এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইশমাম হোসেন তন্দ্রা, উর্মিলা তন্বী এবং বি.এম. শাকিল জিম।
এ ঘটনায় মোঃ হাসিবুল রহমান (২০), মোঃ সোহেল আহম্মদ (২১), খন্দকার সাব্বির (২০), মোঃ মাশরাফি আলম প্রাপ্পো (২০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ঐ দুই ছাত্রী ও তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুদের নিয়ে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১৫-২০ জন স্থানীয় যুবক তাদের লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। পরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দলবদ্ধভাবে দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে থাকা বি.এম শাকিল জীমকেও মারধর করে অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে তারা ঐ শিক্ষার্থীদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং বিনা অনুমতিতে তাদের ভিডিও ধারণ করে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র ভাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে তারা। পরে কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অভিযুক্তরা তাদের উপস্থিতিতেও বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রাখে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তাদের অনুমতি ছাড়া ধারণকৃত ভিডিওসমূহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এবং তাতে বিভিন্ন মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর ক্যাপশন ব্যবহার করে।
যেসব পেইজে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে —ঝিনাইদহ আকাশ, Creative By Prappo, নবগঙ্গা টিভি, Daily Jhenaidah, ঝিনাইদহ ব্রেকিং, সোহেল রানা সেতু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও ভিডিওগুলো কুরুচিপূর্ণ শিরোনাম ও মন্তব্যসহ শেয়ার করা হয়েছে যার মধ্যে Khandokar Sabbir, Md Masrafi Alam Prappo উল্লেখযোগ্য।
এজাহারে ঐ শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে, পেইজ ও প্রোফাইলগুলো আমাদের সম্মতি ব্যতীত ভিডিও প্রচার করে আমাদের মানহানি করেছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। যদিও আমরা কিছু পেইজ থেকে ভিডিও সরাতে সক্ষম হয়েছি, তবুও এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হচ্ছে এবং আমাদের নিয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা আমাদের সাথে শ্লীলতাহানি, শারীরিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান, অবৈধভাবে মব সৃষ্টি, ইভ টিজিং ও সাইবার বুলিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে, যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পেইজ ও প্রোফাইল থেকে ভিডিও অপসারণ এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করার জন্য সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ইশমাম হোসেন তন্দ্রা বলেন, ঐদিন আমি আমার স্বামীসহ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ঝিনাইদহ ভ্রমণে যাই। শহীদ মিনারে ক্যাম্পাস বাসের জন্য অপেক্ষা করাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
আমরা দাবি জানাই, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমাদের মানহানিকর ভিডিও ও কনটেন্ট সম্পূর্ণরূপে অপসারণে সহায়তা করা হোক। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তাঁরা যেন আমাদের উপর পরবর্তীতে কোনো আক্রমণ না করে সে ব্যাপারেও নিশ্চয়তা চাই আমরা।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, গতকাল ঘটনাস্থলে আমরা উপস্থিত হয়েছিলাম। অভিযুক্তদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাও চাওয়ানোর মাধ্যমে সমাধান করেছিলাম। পরবর্তীতে শুনলাম বিষয়টি পুনরায় স্যোশাল মিডিয়ায় এনে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের মামলার ব্যাপারে শুনেছি। তবে, আজ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এখনো অফিসে না যাওয়ায় মামলার কপি হাতে পাইনি। থানায় যেয়ে এজাহার দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: