জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাবিতে ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর গণভোজ

রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫৬; আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:০৬

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯টি আবাসিক হলে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে গণভোজ ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরা, শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সহযোগিতায় এ বিশেষ গণভোজের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা মোট ১৩ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এর মধ্যে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলে ৪৪০ জন, শাহ মখদুম হলে ৬৬০ জন, নবাব আব্দুল লতিফ হলে ৬২০ জন, সৈয়দ আমীর আলী হলে ৫৫৩ জন, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ৭২০ জন, শহীদ হবিবুর রহমান হলে ১ হাজার ২৬২ জন, মতিহার হলে ৮০০ জন, মাদার বখশ হলে ৯৫০ জন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৮৫০ জন, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৯৯২ জন এবং বিজয়-২৪ হলে ৮০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এছাড়া মন্নুজান হলে ১ হাজার ১২ জন, রোকেয়া হলে ৯২৮ জন, তাপসী রাবেয়া হলে ৫৭০ জন, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৬৬০ জন, রহমতুন্নেসা হলে ৭৩৬ জন, জুলাই-৩৬ হলে ১ হাজার ২৪০ জন এবং বিজয়-৭১ হল ও শহীদ মীর আব্দুল কাইয়ুম ডরমিটরিতে ৩৭ জন শিক্ষার্থী গণভোজে অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ এ গণভোজে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবারে পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, ডাল, মিষ্টি ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও মাদার বখশ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহ হোসেন আহমেদ মেহেদী বলেন, “আজকের আয়োজনে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি সার্বিকভাবে সফল হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এত বড় আয়োজন হওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে। অনেক পাত্রে একসঙ্গে রান্না করায় খাবারের মানে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমরা একই মেনু ও মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ ভালো আয়োজনের চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেই আমাদের ধারণা।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এ বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য আনন্দ ও গৌরবের একটি দিন। তাই আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ১৩ হাজার ৮৩০ জন শিক্ষার্থী টোকেন সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়া টোকেনের বাইরেও অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ আয়োজন নিয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের শক্তি, সাহস ও নতুন পথচলার প্রতীক। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রতীক এই জুলাই। একই সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের ওপর সংঘটিত অন্যায়-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণজাগরণের স্মারক।”



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top