এক বছরে বেড়েছে ১২ হাজার কোটিপতি

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৮; আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৯

- ছবি - ইন্টারনেট

অর্থনীতিতে গতি কমা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ার আলোচনার মধ্যেই দেশে ব্যাংকগুলোয় কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা আবারও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটিপতি হিসাব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত জমা রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। এর এক বছর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। অর্থাৎ এক বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ১১ হাজার ৯৬৩টি।

শুধু বছরের হিসাবে নয়, শেষ তিন মাসেও এই হিসাব দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি হিসাব ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। তিন মাস পর ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর— এই তিন মাসেই ব্যাংক খাতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯৭৪টি কোটিপতি হিসাব।

এই হিসাবগুলোতে জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাবগুলোতে মোট আমানত বা অর্থ জমার পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত জমার পরিমাণ বেড়েছে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই যে একজন কোটিপতি ব্যক্তি— বিষয়টি সব ক্ষেত্রে এমন নয়। কারণ, ব্যক্তি ছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা রাখে। পাশাপাশি একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। ফলে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক কোটি টাকার হিসাবও থাকতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে অর্থনীতির কাঠামোগত কিছু বাস্তবতাও রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, দেশের অর্থনীতির গতি কমেছে, দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে।

একই সঙ্গে বেকারত্ব, বিশেষ করে ছদ্ম বেকারত্ব উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোটিপতি হিসাব বাড়ার অর্থ হলো আয়বৈষম্য বাড়ছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো না গেলে সামনে এই বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তার মতে, কর কাঠামোতে বৈষম্য থাকলে তা আয়বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। রাজস্ব নীতির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল এই বৈষম্য কমানো।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলছেন, অর্থনীতি সম্প্রসারণের সঙ্গেও এই প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, মানুষের আয় বাড়ছে এবং ব্যাংকের সংখ্যাও বাড়ছে। এসব কারণে ব্যাংকে বড় অঙ্কের আমানতও বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, দেশে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এমন হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। এক বছরের ব্যবধানে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা পৌঁছায় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১ তে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top