টাকার বিপরীতে শক্তিশালী ডলার

ডেক্স রির্পোট | প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারী ২০২২ ২৩:০৭; আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:২৯

ফাইল ছবি

গত দেড় মাস অবস্থান ধরে রাখার পর রোববার আবার ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমেছে। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ১ ডলারের জন্য ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা খরচ করতে হয়েছিল; রোববার তা লেগেছে ৮৬ টাকা। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দরে। খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯১ টাকায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক রোববার ৯০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯০ টাকা ৩০ পয়সায়। ব্যাংকের বাইরে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে প্রতি ডলার ৯১ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ৫ই আগস্ট থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। বাড়তে বাড়তে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠার পর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ওই একই দর ছিল।
রোববার থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত ৫ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১.৪১ শতাংশ দর হারিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে ডলার; বিপরীতে দুর্বল হচ্ছে টাকা। তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

এদিকে ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববারও ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও দর বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের রোববার পর্যন্ত (২০২১ সালের ১লা জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত) সব মিলিয়ে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে যে দরে ডলার বিক্রি বা কেনে তাকে আন্তব্যাংক লেনদেন ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলোও একে অন্যের কাছ থেকে এই রেটে ডলার কেনাবেচা করে থাকে। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে সাড়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যবধান কখনোই এক থেকে-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। রিজার্ভে পর্যাপ্ত ডলার জমা আছে। প্রয়োজন মতো সেখান থেকে ডলার বাজারে ছাড়া হবে।

অথচ বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন কৃত্রিমভাবে ডলার কেনাবেচা করে পরিস্থিতি ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা করা।

এদিকে আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের নেমে এসেছে। রোববার দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৪.৪৫ বিলিয়ন ডলার। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top