কেএনএফের আস্তানা ঘেরাও, সরানো হয়েছে স্থানীয়দের

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৪ ১৭:১৩; আপডেট: ২৭ মে ২০২৪ ০৮:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ের লাইরুনপি পাড়া ও ইডেনপাড়ায় কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) সন্ত্রাসীদের আস্তানা ঘিরে রেখেছে যৌথ বাহিনী। এদিকে অভিযানে ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত থেকে লাইরুনটিপাড়া ও ইডেনপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকালে শতাধিক নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে এনে রুমার লুংঝিরিপাড়ায় অবস্থিত মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ভবন ও বাংলা পাহাড়ে অবস্থিত খ্রিস্টান ফলোশিপ অব বাংলাদেশ (সিএফবি) হোস্টেলে রাখা হয়েছে। তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রুমার মারমা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শোয়ে প্রু চিং বলেন, সকাল থেকেই ওয়েল ফেয়ার ভবনের সামনে বম সস্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের জড়ো করেছে বলে জেনেছি, তবে সেখানে কোনো পুরুষ নেই।

ঈদগাহ দখল নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ
তিনি বলেন, সম্ভবত তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব শিশু নারীদের আমাদের ওয়েল ফেয়ার ভবনের সামনে জড়ো করা হতে পারে।

রুমার লুংঝিরিপাড়ার শৈহ্লাউ মারমা বলেন, সকাল ৬টা-৭টা থেকে ওয়েলফেয়ার ভবনে শিশু ও নারী জড়ো হতে শুরু হয়েছিল, সেখানে বয়স্ক পুরুষ ১০ জনের মত দেখা যায়।

জানা গেছে, গত বছরে কেএনএফের ভয়ভীতি ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে জীবন বাঁচাতে ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মারমা সম্প্রদায়ের ৫১টি পরিবারের ১৪০ জন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মারমা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনে আশ্রয় নিলে তারা ৮ দিন পর বাড়ি ফিরে যায়। একই বছরের ২০ এপ্রিল রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের মুলপিপাড়া থেকে মোট ৪৯ পরিবারের শিশুসহ নারী-পুরুষ মোট ২৩৬ জন একই ভবনে আশ্রয় নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা বাড়ি ফিরে যায়।

উল্লেখ্য,গত ২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে রুমা উপজেলায় কেএনএফ কর্তৃক সশস্ত্র হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও পথচারীদের জিম্মি করে হামলা, অর্থ লুটের উদ্দ্যেশ্যে সোনালী ব্যাংকে হামলা করে ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র লুট করে নেওয়া হয় এবং ৩ এপ্রিল থানচি উপজেলায় স্থানীয়দের জিম্মি করে গুলি ও দুটি ব্যাংকে লুট এবং রাতে ব্যাপক গোলাগুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কেএনএফ। এরপর মূলত কেএনএফ দমনে যৌথ অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী।

বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় দফায় দফায় ব্যাংকে হামলা, টাকা ও অস্ত্র লুট এবং ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ ও ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় ৮টি মামলা হয়েছে। কেএনএফের সহযোগী লাল লিয়ান সিয়াম বম ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয় চেওসিম বমসহ ১৯ জন মহিলা ও ৩৬ জন পুরুষসহ মোট ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সস্ত্রাসীদের আস্তানা ঘিরে রাখা ও স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে রুমা থানার ওসি মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, আমরা এই বিষয়ে কাজ করছি, আপনাদের পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।




বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top