জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ
রাজশাহীর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হবে: ভূমিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩১; আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২৬ ২১:৪৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হবে এবং রাজশাহী থেকে কোনো সরকারি দপ্তর অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত রাজশাহীর মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং জেলার কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৬ টায় নগরীর আলুপট্টি মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের সন্তানেরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে খুনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছে।”
তিনি বলেন, “রাজশাহীর আলুপট্টি চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আলুপট্টির পূর্ব দিক থেকে যে মিছিল এসেছিল, সেখানে খুনি আরমান, মাহতাবের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং ডাবলু সরকার ভবনের ওপর থেকে অস্ত্র হাতে গুলি চালানো হয়েছিল। আজও লিটন, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যসহ তাদের সহযোগীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের বলে দিতে চাই, শহীদ জিয়ার সৈনিক এবং জুলাই আন্দোলনের সৈনিকরা মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজশাহীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হবে। রাজশাহী বিভাগ তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানেই থাকবে। ভাষা আন্দোলন, ড. শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ইতিহাসে রাজশাহী গৌরবোজ্জ্বল। আমরা লড়াই করতে জানি।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে গেছেন। জীবন রক্ষার জন্য তিনি প্রভুদের কাছে মাথা নত করে প্রাণভিক্ষা চেয়ে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তিনি শিক্ষা দিয়ে গেছেন—কীভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হত্যা করতে হয়, কীভাবে মিথ্যা মামলা দিতে হয়, কীভাবে মানুষকে গুম করতে হয়, কীভাবে দুর্নীতি, খুন ও টাকা পাচার করতে হয় এবং কীভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ‘আয়নাঘর’ তৈরি করে মানুষকে সেখানে রাখা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, তিনি যদি এ দেশে আসেন, তাহলে তাকেও যেন আয়নাঘরে রাখা হয়, যাতে এ দেশের মানুষ তার কুৎসিত চেহারা ও হিংস্র থাবা দেখতে পারে।”
মিলন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরে তিলে তিলে যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠেছে, তার সাক্ষী এই আলুপট্টি। এখানেই আমাদের ভাইদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল।”
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক। এছাড়াও বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রীর সহধর্মিণী সালমা শাহাদাত, জুলাই আন্দোলনের শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মো. মায়নুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ওয়ালিউর রহমান রানা ও নজরুল হুদা এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক জনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: