দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে বিএনপি-জামায়াত: ডা. শফিকুর
রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জানুয়ারী ২০২৬ ২২:৩৪; আপডেট: ২ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:০৯
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রিয় বাংলাদেশের স্বার্থে অতীতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশাল্লাহ আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির।
কার্যালয়ে পৌঁছে প্রথমেই মরহুমা বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় যান এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার সংগ্রামী জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। শেষ জীবনটা জেলে তার একাকিত্ব অবস্থায় কেটেছে। এ সময় যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা অমানবিক আচরণ করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও সরকার আমলে তো নেয়ইনি, বরং বারবার উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার, শেষ জীবনে তিনি বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। তবে তার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যে এতটাই ভেঙ্গে যায় যে, দেশেই তার চিকিৎসা নিতে হয়। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার পরিবারের সদস্য, বিএনপি নেতাকর্মী এবং চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেছেন। তার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সবাই তার জন্য চোখের পানি ফেলেছেন। তার শেষ বিদায় সংবর্ধনায় জাতির পাওনা তিনি পেয়েছেন। এটা সবার কপালে জোটে না। এটা বিশাল ব্যাপার। আমরা শুকরিয়া আদায় করি। এটা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করেছে যে, আমরাও জাতির জন্য অবদান রাখলে জাতি এভাবে সংবর্ধনা দেবে।
তিনি বলেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হবে, একইদিনে গণভোটও হবে। এই নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, এই দোয়া করি, আমরা এই বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি, প্রিয় দেশের স্বার্তে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করবো। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি।
এমনকি আমরা এটাও বলেছি, জাতির স্থিতিশীলতা ও একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পাঁচটা বছরের জন্য আমরা সবাই মিলে মিশে ভাল কিছু চিন্তা করতে পারি কিনা-সেটাও আমরা চিন্তা করতে পারি।
তিনি বলেন, আমরা এটাও বলেছি- আগামী নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই আমরা ইনশাআল্লাহ বসব। খোলামনে কথা বলবো, জাতির জন্য আমরা চিন্তা করবো, জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব। ম্যাডাম যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে যেন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেই দোয়া কামনা করি।
সাক্ষাৎকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াত আমিরের সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন এবং সাইফুল আলম খান মিলন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: