নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: জামায়াত সেক্রেটারি

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:০২; আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ২২:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনগণের দুর্ভোগ এবং নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। সরকার জরুরি খাতে টাকা নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারে। সমস্যা সমাধানে দশ বছরের অজুহাত দেখানো যাবে না।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। জরুরি ভিত্তিতে যেকোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সিন্ডিকেট করে লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। সেজন্য জনগণের এই দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ ১০ বছর, আবার কেউ দুই বছরের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন। তাঁদের বক্তব্যের মধ্যেই কোনো মিল নেই। ‘তাঁরা আগে নিজেদের মধ্যে সালিশটা মিটিয়ে নিক’—বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংকট সমাধানে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে জাতির কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মতো পণ্য তৈরি বা রফতানি করতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি।’

সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংসদে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। এখন সেই অর্থ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যর্থ সরকারগুলো জনগণের দুর্ভোগ আড়াল করতে এবং নিজেদের গণবিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে নন-ইস্যুকে সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top