আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ
রাজশাহীতে চৌরঙ্গী জামে মসজিদে ‘অবৈধ নির্মাণ’ বন্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬ ২১:৫০; আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ২১:২৭
চৌরঙ্গী জামে মসজিদ-মাদ্রাসায় নির্মাণকাজ বন্ধ ও তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকার চৌরঙ্গী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসাকে ঘিরে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে নগরীর সি অ্যান্ড বি মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মসজিদের সাবেক আহ্বায়ক আমিনুর রহমান বাচ্চু কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আমিনুর রহমান বাচ্চু অভিযোগ করেন, একাধিক আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মসজিদের ভেতরে অবৈধভাবে দোকানপাট, পায়খানা-পেশাবখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, নামাজের স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক দোকান নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা মসজিদের ধর্মীয় পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ, মাদ্রাসা ভবন ভেঙে ফেলা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপনের অভিযোগও তোলা হয় বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় বাচ্চু ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর এবং মামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুর রহমান বাচ্চু বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ মুসল্লিদের সমর্থনে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও পরে জোরপূর্বক তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে মসজিদের ভেতরে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ-মাদ্রাসার পবিত্রতা রক্ষা, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুর রশিদ বলেন, তিনি রোগী দেখায় ব্যস্ত রয়েছেন। মামলা ও মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মসজিদের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদের সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল বারী বলেন, উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “সেই সময় আমি ইমারত কমিটির সদস্য ছিলাম। মামলা চলমান থাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: