জুলাই শহীদদের ন্যায়বিচারে বিশেষ আদালত গঠন সময়ের দাবি
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৪:২১; আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:২২
জুলাই আন্দোলনের সময়ের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জেলা পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠন করা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মামলা ঝুলে থাকলে বিচারপ্রার্থীদের আগ্রহ ও আস্থা কমে যায়। তাই জেলা পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠনের মাধ্যমে জুলাই-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে শহীদদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, “যতদিন এই বিচার নিশ্চিত করা না যাবে, ততদিন জাতীয় ঐক্যও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না। পাশাপাশি, জুলাইয়ের চিহ্নিত অপরাধীদের জামিনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় কি না, তাও বিবেচনা করা উচিত।”
তিনি বলেন, “ছাত্ররা যখন কোনো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, তখন আমরা তাদের প্রতি অগাধ আস্থা রাখি। আমরা বিশ্বাস করি ছাত্ররা কোনো অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের জন্য নয়, বরং দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করে। এ বিশ্বাস আমরা মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং চব্বিশের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেখেছি ।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের জাতীয় ঐক্যের একটি প্রতীক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অতীতে আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারিনি। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও একটি সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্যে পৌঁছাতে না পারায় বারবার আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে। জুলাই আমাদের যে ঐক্য ও বোধোদয়ের শিক্ষা দিয়েছে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দেশের সব রাজনীতিবিদকে তা নীতিগতভাবে ধারণ ও বজায় রাখতে হবে।”
জুলাইয়ে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার যেভাবে প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকে, একইভাবে জুলাইয়ে আহতদের তালিকাভুক্ত করে তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানাব।”
রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে শহীদ আলী রায়হানের বাবা মুসলিম উদ্দীন বলেন, “আমার একটাই ছেলে ছিল। সে আমাকে খুব ভালোবাসত। একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আজও মনে পড়ে। সে বলত, চাকরি পেলেই আমাকে হজে পাঠাবে।”
সভায় শহীদ মিনারুলের স্ত্রী নূরে ইসলাম খাতুন বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। আমার ছেলে তাঁর বাবাকে দেখার সুযোগ পায়নি। দেশের জন্য তিনি জীবন দিয়েছেন। তাঁর রক্ত যেন বৃথা না যায়। আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাই। আমার সন্তান আজ এতিম। সরকার যেন তার ভবিষ্যতের বিষয়ে সহযোগিতা করে।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহানগর বিএনপির নেতা ওয়ালিউল হক রানা, গণ-অভ্যুত্থান পরিষদের আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম, এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং জুলাই যোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম, আল মামুন ও নাহিদুল ইসলাম সাজু।
এ সময় রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: