মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৪; আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩২

ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় তিন দেশে মার্কিন বাহিনী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন বলছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় পরিসরে এ হামলা চালিয়েছে।

ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নূর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাবে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ‘শত্রুপক্ষের গতিবিধি’ পর্যবেক্ষণ করে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ঘাঁটির একাধিক জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে যায়।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এটি তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ।

পৃথক আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলায় কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেমেও হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমঝোতা স্মারক উপেক্ষা করে ইরানে এক রাতে প্রায় দেড়শ' স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার হামলা।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ‘ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে’ তারা ইরানের ওপর তৃতীয় দফার হামলা সম্পন্ন করেছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

ইরান বলেছে, বেশ কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত নৌপথ’ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, এ অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা হামলা শুরু করে।

ইরান তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে। কয়েক ঘণ্টা না যেতেই সেই হামলাই শুরু করেছে মোস্তফা খামেনির দেশ।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top