জুলাইয়ে শহীদ মিনারুলের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ
দেশে চাঁদাবাজিসহ নানা দুর্নীতি চলছে - অ্যাড. আবু মোহাম্মদ সেলিম
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৬; আপডেট: ৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৩
মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মোহাম্মদ মিনারুল ইসলাম এর কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নেতৃবৃন্দ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম নতুনপাড়া গোরস্থানে এ কর্মসূচি পালন করা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর সিনিয়র নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আহসান বুলবুলসহ মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ও কর্মীরা।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সিনিয়র নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “দেশের মানুষ রক্তের বিনিময়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। কিন্তু এরপরও দেশে চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও নানা ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। এসব বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “৩৬ জুলাইয়ের রক্তে লেখা জুলাই সনদ নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই দেশ প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুফল ভোগ করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাইকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর পক্ষ থেকে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।”
সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আহসান বুলবুল বলেন, “১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। জনগণ বৈষম্য, দুর্নীতি, বিদেশি আধিপত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় এই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছে।”
কবর জিয়ারত শেষে মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: