দেশকে পেছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার: ড. কেরামত আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪০; আপডেট: ১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

“বর্তমান সরকার আবারও ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে গণভোটের ফলাফল ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত গণমিছিল-পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী এমপি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৬টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

ড. কেরামত আলী বলেন, “আমরা সবাই মিলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু তখন তাদের (বিএনপি)  অন্তরে যে নেফাক (ভণ্ডামি) ও প্রতারণা লুকিয়ে ছিল, তা প্রকাশ পায়নি।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, গণভোট নাকি সংবিধানে ছিল না। কিন্তু আপনারা কি সংবিধানের আওতার বাইরে এসে ক্ষমতায় এসেছেন? এ নির্বাচন কি সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে? স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা কি সংবিধান মেনেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন?”

তিনি আরও বলেন, “জনগণ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে গণভোটের ফলাফল এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম। সঞ্চালনা করেন মহানগর যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “দেশকে আমরা কয়েক দফা স্বাধীন হতে দেখেছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল, তারাও রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে বারবার স্বৈরাচারের উত্থান ঘটেছে। এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।”

তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে হত্যা, গুম ও খুনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি।”

আবু মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা সতর্কবার্তা দিতে চাই। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া এবং মব সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে।”

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মো. জাহাঙ্গীর, সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও কল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ, তরবিয়ত সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামানসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে বিকেলে নগরীর নিউমার্কেট মেইন গেট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top