হকির অনুষ্ঠানে সেরা আকর্ষণ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:২১; আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

আগেই জানা গিয়েছিল অক্টোবর-নভেম্বরে হতে যাওয়া দেশের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হকিতে একটি দল কিনবে দেশের ক্রিকেটের বড় তারকা সাকিব আল হাসান। তার প্রতিষ্ঠান মোনার্ক মার্টসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের ৬টি বিভাগীয় দল নিয়ে আয়োজন হবে এই টুর্নামেন্ট। যার অফিসিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে হয়ে গেলো এই প্রতিযোগিতার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান এসিই’র সঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের পাঁচ বছরের চুক্তি। যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। সুসজ্জিত মঞ্চে উঠে সাকিব নিজেই উম্মোচন করলেন তার প্রতিষ্ঠানের লোগো।

ছয় বিভাগীয় দল যে ছয় প্রতিষ্ঠান কিনে নেবে তার মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম চুক্তি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করতে পেরেছে আয়োজকরা। পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো একমি, রূপায়ন গ্রুপ, ওয়ালটন, সাইফ পাওয়ারটেক ও মোনার্ক মার্ট। ষষ্ঠ দলের নাম কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানটি আকর্ষণীয় করতে চেষ্টার কমতি রাখেননি আয়োজকরা। আবদুস সাদেকসহ বড় বড় তারকা খেলোয়াড়রা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন জাতীয় হকি দলের কোচ ইমান গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তিও।

এসব বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। তারা টুর্নামেন্টের জন্য সোমবারই এক কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইস এর চিফ প্যাট্রন এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান আনভীর।

অনুষ্ঠানে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘খেলার সঙ্গে থাকাটাই একটা বড় ব্যাপার। বাংলাদেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে খেলায় অনেক কিছু করার সম্ভাবনা আছে। সবাই যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করছে। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা শুরু করলাম। আশা করি আমরা যত দূর সম্ভব খেলাধুলার সঙ্গে থাকতে পারব এবং স্পোর্টসকে প্রমোট করতে পারব, যাতে বাংলাদেশ স্পেশালি স্পোর্টসের উন্নতি হয়। শুধু ক্রিকেট কিংবা ফুটবল নয়, যতগুলো খেলা আছে সব জায়গায় যেন আমরা সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যেতে পারি।’

সাকিব আল হাসান ছিলেন বিকেএসপির শিক্ষার্থী। কেবল ক্রিকেট নয়, বিভিন্ন খেলার শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিল সখ্য। তার রুমমেটও ছিলেন একজন হকি খেলোয়াড়। স্মৃতি হাতড়ে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমি বিকেএসপিতে পড়াশোনা করেছি। তাই সব গেমসের সঙ্গে আমার পরিচিতি বেশি। আমার অনেক বন্ধু আছে যারা হকির জাতীয় দলে খেলেন এবং খেলেছেন। হোস্টেল লাইফে হকির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমাদের লকারের আশপাশে সব সময় হকিস্টিক থাকতো। হকির অনেক সম্ভাবনা আছে। র‌্যাংকিংয়ে আমরা ২৭। ১৬ দেশ বিশ্বকাপ খেলে। বেশি তো দূরে নয়। মাত্র ৯ র‌্যাংক ব্যাবধান। আমার বিশ্বাস যদি সঠিক প্রমোশন পায় হকি এবং ভালোভাবে সবাই উদ্যোগ নেয় তাতে আমরা বিশ্বকাপ খেলতেই পারি।’

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দল কেনা প্রসঙ্গে সাকিব আল হাসান বলেন, ‘যেহেতু একটা দল নিয়েছি। আমাদের চিন্তা থাকবে দলটাকে কীভাবে সঠিকভাবে প্রমোট করতে পারি। এই দলটাকে কীভাবে ভালোভাবে পারফরম্যান্স বের করতে পারি এবং যদি সেটার একটা রোলমডেল হতে পারি। অন্য দলগুলো সেটা হয়তো ফলো করতে পারবে এবং সামগ্রিকভাবে হকিরই একটা উন্নয়ন হবে।’

খেলোয়াড়দের চাকরি ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গটাও বাদ যায়নি সাকিব আল হাসানের বক্তব্য থেকে, ‘এটা ভালো একটা উদ্যোগ। বিশেষ করে আমাদের প্রফেশনাল খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হবে। একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ১০-১৫ বছর সবার থাকে না। যারা সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তাদেও চাকরির সুযোগ ও আর্থিক নিরাপত্তা যদি দিতে পারি তখন খেলোয়াড়রা খেলায় অনেক বেশি ফোকাস করতে পারবে এবং তাদের কাছ থেকে আরও বেটার পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে। সামগ্রিকভাবে হকির উন্নয়ন হবে। দেশেরও উন্নয়ন হবে।’



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top