অব্যবস্থাপনা নিয়েই আজ নবম বিপিএলের যাত্রা

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারী ২০২৩ ১২:১১; আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:২৮

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পর বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগ বলে দাবি করেন খোদ বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তার এ দাবি কতটা যৌক্তিক? আরেকটি বিপিএল শুরুর প্রাক্কালে প্রশ্নটি আবার উঠে এসেছে। কেননা অতীতের মতোই কিংবা কিছু কিছু জায়গায় তার চেয়েও বেশি অস্বস্তি আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে নবম বিপিএল আসর।

প্রায় একই সময়ে বিশ্বে আরো দুটি টি২০ লিগ চলবে বলে এবার বিপিএলে দেখা যাবে না বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট তারকাদের। অতীতে এ লিগ মাতিয়েছেন ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, রশিদ খান, অ্যালেক্স হেলস, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো বড় তারকারা। এবার তারা নেই।

যদিও বিদেশী তারকারা একেবারেই যে আসছেন না, তেমন নয়। পাকিস্তানের বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহিন শাহ আফ্রিদি (ফিট থাকা সাপেক্ষে), জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান কিছু ম্যাচ হলেও খেলছেন বিপিএলে।

শন উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ব্র্যান্ডন কিং, খুশদিল শাহ, হাসান আলী, আহমেদ শেহজাদ, শান মাসুদ, রাহকিম কর্নওয়াল, হায়দার আলী, ইব্রাহিম জাদরান, ইফতিখার আহমেদ, কুশল পেরেরা, দাসুন শানাকা, ওয়াহাব রিয়াজ, নাসিম শাহ, ফখর জামান, হারিস রউফ, মুজিব উর রহমান, শোয়েব মালিক, রায়ান বার্ল, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ হারিস, থিসারা পেরেরা এবারের বিপিএলে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলবেন। যদিও এদের অনেকেই পুরো বিপিএল আসরে খেলবেন না।

বিপিএল মানেই যেন চরম অনিশ্চয়তা। এ বছর যে ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, পরেরবার তাদের দেখা যাবে কিনা তা কেউ জানে না। এ কারণেই এখন পর্যন্ত নয়টি আসরে মোট ২৭ জন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এসেছেন! এক সিলেটেই এসেছেন ছয়জন ভিন্ন ভিন্ন মালিক, আর বিভিন্ন সময়ে ঢাকার মালিক ছিলেন পাঁচজন। এবার দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই নতুন মালিক। কুমিল্লা ২০১৫ সাল থেকে একই মালিকের অধীনে অংশ নিলেও মাঝে এক মৌসুম তাদের বাদ দেয়া হয়। ২০১৯ সাল থেকে নেই রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিসিবি, বিপিএল গভর্নিং বডি কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট অস্থিরতা বিপিএলের নিয়মিত চিত্র।

বিপিএল-২০২৩ আয়োজনে বড় দুর্বলতার জায়গা হলো এবারো ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) থাকছে না। তাতে টুর্নামেন্টের রঙ অনেকটাই কমে যাবে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ইস্পাহানি ও পাওয়ার্ড বাই হিসেবে মিনিস্টার গ্রুপের নাম ঘোষণার সময় ডিআরএস নিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। জানতে চাওয়া হয়েছিল টাইটেল স্পন্সর চুক্তি ও সম্প্রচার চুক্তির আর্থিক মূল্য কত? কিন্তু ‘চুক্তির শর্তের’ কথা বলে তিনি আর্থিক অংক উল্লেখ করেননি।

ডিআরএস নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‘দু-তিন মাস আগেই আমাদের প্রডাকশন টিম বিষয়টি (ডিআরএস না থাকা) জানায়। এরপর আমরা আমাদের জায়গা থেকে ডিআরএস আনার সব চেষ্টা করেছি। আইসিসির সঙ্গেও এ নিয়ে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো কারণে সেটা আনা সম্ভব হয়নি। কারণ একই সময়ে বেশকিছু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চলছে। কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও চলছে। এসব কারণেই আমরা ডিআরএস আনতে পারিনি। আমাদের এখানে অবশ্যই সীমাবদ্ধতা ছিল, যে কারণে আমাদের প্রডাকশন হাউজ সেটা আনতে পারেনি। আমরাও এটা জানার পর নিজেদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ মুহূর্তে যারা ডিআরএস সার্ভিস দেয়, তাদের যথেষ্ট লোকবল নেই। ভারত সিরিজের পর ডিআরএসের জিনিসপত্র পড়ে আছে। কিন্তু ব্যবহার করার লোক নেই।’

প্রায় একই সঙ্গে শুরু হবে আরো দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগ। ১০ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন টি২০ লিগ এসএ২০ শুরু হবে। ১৩ জানুয়ারি শুরু হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আইএল টি২০’। দুটি লিগে যেসব দল অংশ নেবে তাদের সবাই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও আরব আমিরাতে থাকছে ডিআরএসও। এটা তাই ধরেই নেয়া যায়, আইপিএলের দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠেনি বিপিএল। ডিআরএস না পাওয়ার পেছনে এটাই কারণ কিনা জানতে চাইলে সুজন বলেন, হতেই পারে। বিষয়টা অনেকটা ওই রকমই।

আজ বিপিএল শুরু হলেও আইপিএল কিংবা অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টের মতো এখানে ম্যাচের আগের দিন দলের অধিনায়ক, কোচ কিংবা শীর্ষ খেলোয়াড়দের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের কোনো আয়োজন নেই। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বিসিবির সিইও। তিনি বরং পরের আসর থেকে আয়োজনে উন্নতি আনার তাগিদ দেন।

এবার প্রথম ধাপের খেলা হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। আজ বেলা আড়াইটায় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও সিলেট স্ট্রাইকার্স এবং সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স।

এবার ঢাকা ডমিনেটর্স দলকে নেতৃত্ব দেবেন নাসির হোসেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে ইমরুল কায়েস, খুলনা টাইগার্সকে ইয়াসির আলী, রংপুর রাইডার্সকে নুরুল হাসান সোহান, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে শুভাগত হোম চৌধুরী, বরিশালকে সাকিব আল হাসান আর সিলেটকে মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বিপিএল ২০২৩-এর খেলাগুলোকে এবার পাঁচটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিপিএল চলে যাবে চট্টগ্রামে। সেখানে ১২ ম্যাচ শেষে ২৩ জানুয়ারি ঢাকায় শুরু হবে তৃতীয় পর্ব। এ পর্বে ঢাকায় মাত্র দুদিন খেলা শেষে বিপিএল চলে যাবে সিলেটে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিপিলের। ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শুরু হবে নবম বিপিএলের পঞ্চম ও শেষ পর্ব। ডাবল রাউন্ড রবিন লিগ শেষে প্লে-অফের উত্তাপ। ১৬ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিপিএলের। সাত দলের এ আসরে এবার মোট ৪৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, গতকাল ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বরিশালের প্রতিনিধি হয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রায় প্রতিটি আসরেই নিয়ম ভেঙে আলোচনায় আসা সাকিবের এবারের অনুপস্থিতির মধ্যে অবশ্য একটি বার্তাও রয়েছে। দুদিন আগেই তিনি বিপিএলকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চেয়েও নিম্নমানের টুর্নামেন্ট বলে আলোচনার জন্ম দেন। গতকাল টাইটেল স্পন্সর ঘোষণার অনুষ্ঠানেও সে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিকালে সাকিব নেই ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

এবার বিপিএলের খেলা দেখাবে নাগরিক টিভি। এছাড়া বাংলাদেশে দারাজ ব্যবহারকারীরা এখন বিনামূল্যে দারাজ অ্যাপের মাধ্যমে বিপিএল ক্রিকেট উৎসবের মৌসুম উপভোগ করতে পারবে। ম্যাচগুলো কেবল দারাজ অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে সরাসরি দেখা যাবে। আগ্রহী যে কেউ এখন দারাজ অ্যাপে বিনামূল্যে দেশের যেকোনো স্থান থেকে সহজেই বিপিএল ম্যাচগুলো অ্যাকসেস ও উপভোগ করতে পারবেন। বিপিএল ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি দারাজ গ্রাহকরা তাদের ক্রয়ের ওপর পুরো বিপিএল মৌসুমে আকর্ষণীয় ডিল ও ছাড় উপভোগ করতে পারবে।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top