ইবির হলে এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অন্য মেয়েদের গোপন ছবি বয়ফ্রেন্ডকে শেয়ারের অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২৬ ১৪:০৯; আপডেট: ৭ আগস্ট ২০২৬ ১৫:০৭

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া তার বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তুবাউল জান্নাত ঐশী। তার বাড়ি যশোর জেলায়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান আবিদ। এরপর হলটিতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সমর্থনে কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন বলে দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।" এ সময় তিনি পরদিন প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, একাধিক সূত্রের দাবি, আবিদ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময়ই তার কাছে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ওই ব্যক্তি সেগুলোর কিছু অংশ হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীর কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, ​"ঘটনাটি আমি অনেক রাত্রে অবগত হয়েছি। সকালে হলে এসে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিয়েছি। ভিন্ন ভিন্নভাবে সর্বমোট ৭টি অভিযোগ পেয়েছি।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হল বডি, আবাসিক শিক্ষকদেরকে নিয়ে মিটিং করেছি। আমরা আগামী আরও তিন দিন অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছি। তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলেছি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, "অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্ত নিজেও কিছুটা স্বীকার করেছে। তাই তাকে প্রাথমিকভাবে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।"

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) মধ্যরাত থেকেই জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top