রাবিতে টাঙ্গাইল জেলা সমিতির নবীন বরণ ও প্রবীণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৫; আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:০০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) টাঙ্গাইল জেলা সমিতির (টাজেস) নবীন বরণ, প্রবীণ বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ( ১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনে এ আনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা সমিতির উপদেষ্টা ড. জি এম শফিউর রহমান-কে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হাওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং টাঙ্গাইল জেলা থেকে রাবিতে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।
একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
এসময় অনূভুতি ব্যক্ত করে এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। টাঙ্গাইল জেলা সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের যে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুটাকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও টাঙ্গাইল জেলার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করব।
বিদায়ী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ জীবনের পথচলায় আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সঙ্গে আমাদের যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়েছে, সেটি সবসময় অটুট থাকবে। নবীনদের প্রতি আমার আহ্বান মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার সুনাম বয়ে আনবে।
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. শফিউর রহমান বলেন, আজকে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম নবীন-প্রবীণদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য বলা হলেও কেউ সামনে আসতে চাচ্ছেন না। অথচ আমরা যখন এই জেলা সমিতিতে ছিলাম, তখন কে আগে মাইক্রোফোন নিয়ে কথা বলবে, তা নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা হতো। আজকে সেরকম উৎসবমুখর পরিবেশ দেখলাম না। কেন এমন হলো, সেটা বুঝতে পারলাম না। তবে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা আজ নবীন ও প্রবীণ হিসেবে এখানে উপস্থিত আছো, তোমরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। তোমরা যে জায়গাতেই থাকো না কেন, সেখানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করো। একজন শিক্ষকের কাছে তার শিক্ষার্থীদের সফলতা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি আশা করি সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়ে টাঙ্গাইল জেলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনবে।
টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যপক ড. পাপিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেকেই মেধাবী। আমাদের এই মেধাকে আরও বিকশিত করতে হলে জ্ঞান অন্বেষণের কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে বিভিন্ন এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণেরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সময় আমাদের সবার জন্যই সীমিত। তাই এই সীমিত সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, টাঙ্গাইল জেলা সমিতি বর্তমানে একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান ধরে রেখে আরও এগিয়ে যাবে। আমাদের সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের মেধা বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা সমিতির সধারণ সম্পদক ওবায়দুল শিকদারের সঞ্চালনায় উপস্তিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন, ফাইনান্স বিভাগের প্রভাষক মো. জুয়েল মিয়া সহ টাঙ্গাইল জেলা সমিতির প্রায় ২ শাতাধিক নবীন ও প্রবীন শিক্ষার্থী।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: