চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার
বন্যার প্রভাবে রাজশাহীর সবজি বাজারে আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৯:৪৬; আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫০
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও টানা বর্ষণের প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর খুচরা সবজির বাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় সপ্তাহের ববধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুন ও শসার দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত এবং শসার দাম প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। তবে মাছ, চাল ও গরুর মাংসের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নগরীর সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া ও আশপাশের বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
বাজারে দেখা গেছে, বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৯০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। করলার দাম ৮০ টাকা। পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি, কাঁকরোল ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা এবং চাল কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে উৎপাদন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। মোকামে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। ডিম ও মুরগির বাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের শিং ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং দেশি শিং ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজার করতে আসা নগরীর আলুপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, "এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম অনেক বেশি। সংসারের খরচ সামলাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।"
মাস্টারপাড়া এলাকার ক্রেতা হায়দার বলেন, "গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি দরে বেগুন কিনেছি। আজ একই বেগুনের জন্য ১০০ টাকা চাচ্ছে। মরিচের দামও বেড়েছে। মুরগি ও ডিমের দামও আগের চেয়ে বেশি।" সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা সুমন বলেন, "টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মোকামে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।" আরেক বিক্রেতা রকি বলেন, "সারাদেশের বন্যার প্রভাব রাজশাহীর বাজারেও পড়েছে। বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বাড়ছে। সামনে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও বাড়তে পারে।"
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ও পরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিনেও ভোক্তাদের বাড়তি দামে সবজি কিনতে হতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: