জুলাই সনদ না মানলে স্বৈরাচারের পথেই হাঁটবে সরকার: ড. জাহাঙ্গীর

রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ ২০:৫০; আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৪

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটকে মানছে না। তারা যে পথে হাঁটছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেই পথটি স্বৈরাচারের পথ দেখায়। যাদের রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই সনদ একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যারা এ দেশের মাটিতে রক্ত ঝরিয়েছেন, তাদের সেই রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ বড় মসজিদের পাশে সকল জুলাই শহীদদের সম্মানে ও শহীদ আবু সাঈদের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য রাজশাহী মহানগরী আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্যকালে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যুগে যুগে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আজকের এই দিনে শাহাদাত বরণকারী শহীদ আবু সাঈদ। তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সারা দেশে আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন আরও বেগবান হয়। এর ফলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পরিণত হয় হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে।”

ড. জাহাঙ্গীর বলেন, “যে স্বৈরাচার ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও লাঠিচার্জ চালিয়েছিল, আজ আমরা দেখছি কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপরও পুলিশ একইভাবে তাদের পেটোয়া বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, আপনারা সেই পথ থেকে সরে আসুন।”

সমাবেশে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী। তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের রক্তের বিনিময়ে ৫ আগস্ট এ দেশে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, তা দেশের মানুষের জন্য এক আশীর্বাদ। সেই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই, জুলাই সনদ ও গণভোটের দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু দেশকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা কোনোভাবেই জুলাইয়ের চেতনাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না।”

এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সরকার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে দেশকে করদ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন ও নৈরাজ্য চালানো হয়েছে। আমাদের অনেক ভাইকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে এবং জঙ্গিবাদের নাটক সাজানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “যে স্বপ্ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলাম, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশকে আবারও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা যদি কোনো সরকার করে, আমরা তা প্রতিহত করব।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের ঐক্য ও চেতনাকে কোনোভাবেই ভুলে গেলে চলবে না। জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কখনো আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে। এজন্য আওয়ামী লীগবিরোধী ঐক্যকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে।”

শেষে তিনি বলেন, “যারা দিল্লি থেকে এ দেশে ফিরে আসার জন্য চোখ রাঙাচ্ছে, তাদের বলে দিতে চাই—তোমাদের জন্য ফাঁসির দড়ি ছাড়া এক ইঞ্চি মাটিও থাকবে না।”

সমাবেশ শেষে নগরীর হেতেম খাঁ বড় মসজিদের পাশ থেকে একটি শোক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেববাজারের গণক পড়া মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সহকারী আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, এলডিপির আহ্বায়ক সুফিউল ইসলাম জুয়েল, খেলাফত আন্দোলনের রাজশাহী মহনগর সভাপতি মাহবুব আলম, রাবির সাবেক শিবির সভাপতি হাফেজ মাওলানা নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top