প্রজেক্টর না দেওয়ায়
মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটালো বিএনপি সমর্থক
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬ ১১:৪৫; আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৩:৩১
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য মাদ্রাসার প্রজেক্টর দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি সমর্থকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মেরাজুল ইসলাম খোলাবোনা দাখিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী শিক্ষক। অভিযুক্ত মো. আজাদ স্থানীয়ভাবে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ঘটনাটি গত ১৮ জুন সকালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের জামতলা মোড়ে ঘটে বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপের খেলা দেখার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার প্রজেক্টর ব্যবহারের অনুমতি চান আজাদ। তবে প্রজেক্টরটি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় এবং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার সুপার মিকাইল হোসেন জানান, প্রজেক্টর না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আজাদ ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে তিনি শুনতে পান, রাস্তায় শিক্ষক মেরাজুল ইসলামকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানানো হয়েছে এবং শনিবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মেরাজুল ইসলামের অভিযোগ, মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ছেলে সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় জামতলা মোড়ে তার পথরোধ করেন আজাদ। এ সময় তিনি ইট-বালুর টাকার কথা বলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে তার চশমা পড়ে যায় এবং বর্তমানে কানে শুনতে সমস্যার কথা জানান তিনি। চিকিৎসাও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে আজাদ দাবি করেন, মাদ্রাসায় সরবরাহ করা ইট-বালুর বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্য, প্রথমে শিক্ষকই তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন, পরে তিনি পাল্টা মারধর করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, আজাদ দলের কোনো পদধারী নেতা নন, সাধারণ সমর্থক মাত্র। তিনি যে কাজ করেছেন তা সমর্থনযোগ্য নয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হবে এবং সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ চলছে বলে তিনি জানান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: