সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২২ ২০:০৫; আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২২ ০০:০৫

ইয়াশোদা হসপিটালস-এর কনসালটেন্ট ডা. ভিসওয়াসভারান বালাসুব্রামানিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ সচরাচর যেসব ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে অন্যতম হল ফুসফুসের ক্যান্সার। বিশ্বজুড়ে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক। সর্বাধিক প্রাণঘাতি এই ক্যান্সার নিয়ে জনমনে তাই নানান প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি ফুসফুস ক্যান্সারের সার্বিক বিষয় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত ইয়াশোদা হসপিটালস-এর ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি ও স্লিপ মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ভিসওয়াসভারান বালাসুব্রামানিয়ান।

ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার কারণ

ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান। একজন ব্যক্তি কতদিন যাবত ধূমপান করেন ও কি পরিমাণ ধূমপান করেন তার উপর ফুসফুসের ক্যান্সার নির্ভর করে। পরোক্ষ ধূমপান এবং থার্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়ের ফলেও ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়া, অ্যাসবেস্টস, সিলিকা রেডনের মতো পদার্থ ও অন্যান্য দূষণও ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রকারভেদ এবং পার্থক্য

ফুসফুসের ক্যান্সার দুই ধরনের; স্মল সেল লাং ক্যান্সার (এসসিএলসি) এবং নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার (এনএসসিএলসি)। একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের ভিন্ন ভিন্ন থেরাপিউটিক ও প্রগনোস্টিক প্রভাব রয়েছে। এসসিএলসি টিউমার থেকে সৃষ্টি হয়, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায় এবং এর আধুনিক চিকিৎসা সম্ভাবনা খুবই সীমিত। অন্যদিকে, অ্যাডেনোকার্সিনোমার মতো এনএসসিএলসি তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার কল্যাণে ঔষধের মাধ্যমেই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্তের ঝুঁকি

ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলেও অধূমপায়ীরাও ঝুঁকিমুক্ত নয়। অধূমপায়ীদের মধ্যে অ্যাডেনোকার্সিনোমা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। জেনেটিক সাসেপ্টিবিলিটি ও অন্যান্য কার্সিনোজেনের সংস্পর্শের ফলে এই ধরনের টিউমার দেখা দিতে পারে।

ধূমপান ত্যাগ করলে ধূমপায়ীদের ক্যান্সার ঝুঁকি এড়ানোর সম্ভাবনা কতটা

কেউ যখন ধূমপান ত্যাগ করে তখন তার শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং যত দিন যায় তার শরীরের ভেতরের প্রক্রিয়া উন্নতি করতে থাকে। ধূমপান ত্যাগের ফলে রোগীর শরীরে ক্যান্সারের বিকাশ হ্রাস পায় এবং চিকিৎসা আগের তুলনার অধিকতর কার্যকরী হয়। সুতরাং, ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান ত্যাগের প্রতি জোর দেওয়া প্রয়োজন।

ফুসফুসের ক্যান্সারের উপর কোভিডের প্রভাব

কোভিড ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় না। কোভিড আক্রান্তদের সিটি স্ক্যান করার সময় অনেকের ফুসফুসের ক্যান্সারও ধরা পড়ে, এতে অনেকে মনে করেন যে কোভিডের ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারণাটি ভুল। উলটো উক্ত সিটি স্ক্যানের ফলে তাদের ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে সনাক্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়েছিল।

ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গসমূহ

অনবরত কাশি, শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ, বুকে ব্যথা হওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গগুলো ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করা যায়।

চিকিৎসা-সুবিধা

ক্যান্সারের স্তর ও পর্যায় নির্বিশেষে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও অন্যান্য মলিকুলার থেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, টিউমার ডিবুকলিং, এয়ারওয়ে স্টেন্টিং, ইনডওয়েলিং প্লুরাল ক্যাথেটার এবং লোকাল সাইট রেডিয়েশনের মাধ্যমে উপসর্গগুলো হ্রাস এবং রোগ উপশম করে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

ফুসফুসের যত্নে করণীয়

বাহ্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে আমরা যতটা যত্নশীল, অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য তার চেয়েও অধিক যত্নশীল হতে হবে। ধূমপান পরিহার করা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপায়ীদের থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি আমাদের একটি সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন লাভে সাহায্য করে।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top