সারের জন্য আন্দোলন করে লীগ নেতা বহিষ্কার

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৪৯; আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৫০

জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরী।ছবি: সংগৃহীত

সারের দাবিতে কৃষকের আন্দোলনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই আন্দোলনে যোগ দেওয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌধুরী। তিনি সমকালকে বলেছেন, 'আমার জেলায় সারের কোনো ক্রাইসিস নাই। ও (সাইদুর) সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য...। ও কীয়ের আওয়ামী লীগ।'

সার না পেয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জামালপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। গত বুধবার জেলার সদর উপজেলার তুলশীচর ইউনিয়নের গাড়ামারায় কৃষকরা মানববন্ধন করেন। সেখানে সারের ডিলারের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেন তুলশীচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। শুক্রবার তাঁকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তিনি একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মূলনীতির ৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে, 'বাক্‌, ব্যক্তি, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার, সভা-সমাবেশ ও নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।'

দলীয় গঠনতন্ত্র নিশ্চয়তা দিলেও সমাবেশে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তৃতা করায় কেন একজন দলীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হলো- প্রশ্নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, তাঁকে (সাইদুর রহমান) মানববন্ধন না করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সারের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি ওয়ার্ড মেম্বার ও ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হয়ে তো সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারেন না।

সাইদুর রহমান সমকালকে বলেছেন, তিনি সরকারের বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছুই বলেননি। সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করতে ডিলারের অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। তবে সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'যখন সার পাইতেছি না বলে, মানববন্ধন করবেন! তখন কার বিরুদ্ধে যাইতেছে? জেলার সাধারণ সম্পাদক তার (সাইদুর) নাম ধরে বলেছে, তাকে সাময়িক বহিষ্কার কর। জেলার সাধারণ সম্পাদক হুকুম দিলে তো কাজ করতেই হবে।' সাইফুল ইসলাম জানান, সারের সংকট নিরসনে সেদিনও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন ফারুক চৌধুরী। এখন আর কোনো সংকট নেই। খোলাবাজারেও সার পাওয়া যাচ্ছে।

সাইদুর রহমান সমকালকে জানান, সেই মানববন্ধনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়কসহ অনেক নেতা ছিলেন। ত?াঁরা সবাই কৃষক। তিনি নিজেও একজন কৃষক। তাঁর ৫ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। তাঁর নিজেরও দুই বস্তা (১০০ কেজি) ইউরিয়া সার প্রয়োজন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কমবেশি আড়াই হাজার কেজি ইউরিয়া লাগবে চলতি মৌসুমে। কিন্তু ডিলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সার দিচ্ছে না। তুলশীচরের বাকি ৮ ওয়ার্ড সার পেয়েছে। সার না পেয়ে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তাঁদের দাবির মুখেই সেদিন তিনি ডিলারের দোকানে গিয়েছিলেন। ডিলারকে না পেয়ে মানববন্ধনে যোগ দেন, কৃষকদের শান্ত করতে। ওই দিনের ঘটনার পর শনিবার ১০০ বস্তা সার এসেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য।

৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হয়েছে। সাইদুর রহমান নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পক্ষে ছিলেন। জেলার সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নতুন নেতারা তাঁকে (সাইদুর) রাখতে চান না। সার নয় মূল সমস্যা স্থানীয় রাজনীতিতে।

ফারুক চৌধুরী আরও বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ করে সারের জন্য আন্দোলন করবে কেন? মিথ্যা মানববন্ধন করছে। সারের ক্রাইসিস থাকলে মাইনা নিতাম। সমাবেশের তো যুক্তি লাগব। যুক্তি ছাড়া সমাবেশ বিএনপি করে। মিথ্যা কথা কইয়া সমাবেশ করে। আওয়ামী লীগ কীয়েরে করব?'



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top