ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের ২০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২১ ২১:০৩; আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ০৩:০৯

ফাইল ছবি
হোয়াটসঅ্যাপনিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে গত মে ও জুন মাসে ভারতে ২০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর কারণ হিসেবে তারা বলেছে, একজন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ যতজনকে বার্তা ফরোয়ার্ড করতে পারেন, তার সীমা লঙ্ঘন করেছেন এসব অ্যাকাউন্টধারীর বেশির ভাগ।
 
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিতর্কিত নতুন তথ্যপ্রযুক্তি আইন মেনে প্রথমবারের মতো মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হোয়াইটসঅ্যাপ। সেখানেই ২০ লাখ অ্যাকাউন্ট বাতিলের তথ্য এসেছে।
 
 
হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ভারত। দেশটিতে ৪০ কোটির বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। ফেসবুকের মালিকানাধীন এই মেসেজিং সেবাটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা আদান–প্রদান কমানো।
 
হোয়াটসঅ্যাপ তাদের মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে ৮০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে।
 
হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৫ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ভারতে অস্বাভাবিক ও উচ্চহারে বার্তা পাঠানোর অভিযোগে ২০ লাখ অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হয়।
 
ভারতে অনলাইনে ভুয়া খবর ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো বিভিন্ন ভুয়া ও প্রতারণাপূর্ণ লিংক মুহূর্তেই হাজার হাজার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা বাস্তবে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে এ ধরনের বার্তা ছড়িয়ে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, কয়েকজন মারাও গেছেন।
 
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ব্যবহারকারীর অনুরোধ মেনে ভুয়া খবর ঠেকাতে এবং প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার রোধে নিজস্ব প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছে।
বিবিসি বলছে, হোয়াটসঅ্যাপ এমন এক সময়ে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যখন ভারতে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রযুক্তি আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকেও সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তি আইন প্রয়োগ করলে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলো সুরক্ষিত থাকবে না।
 
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষিত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাবে সরকার। এ বিষয়টি বাক্‌স্বাধীনতা ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন বলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকেরা বলছেন, এতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সুযোগ পাবে। তবে ভারত সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, এই আইন মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধ করবে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top