ভর্তি বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীদের
পাঁচ বছরে রাবিতে পোষ্য কোটায় ভর্তি ৪৪২ জন
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:০৮; আপডেট: ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:০৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত পাঁচ বছরে পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন ৪৪২ জন শিক্ষার্থী। তবে বর্তমান সময়ে এ কোটা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কসহ শিক্ষকদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেও সমাধানে আসতে পারেনি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এ কোটায় ভর্তি হয়েছেন ৪৪২ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন। এরমধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৩৬, ‘বি’ ইউনিটে ১৯ এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৯ জন রয়েছেন। এ শিক্ষাবর্ষে মেধাতালিকায় ৭৭১তম হয়েও একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি। অথচ পোষ্য কোটায় ৭ হাজার ৭০০ এর ওপরের পজিশনে থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটে সর্বশেষ ৭৭০তম মেধাস্থানে থাকা শিক্ষার্থী উর্দু বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এরপর আর কোনো মেধাতালিকা প্রকাশ না করায় ৭৭১তম মেধাস্থানের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি। কিন্তু পোষ্য কোটায় ৭ হাজার ৭৮৭তম মেধাস্থানধারী শিক্ষার্থী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
এছাড়া পোষ্য কোটায় ৫ হাজার ২৫০ এর ওপরের পজিশনে থেকে আইন বিভাগে ও ৬ হাজার ৫৫০ এর ওপরের পজিশনে পেয়েছে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ। পাশাপাশি ৭ হাজার ৫৫০ এর ওপরে বাংলা বিভাগে, ৭ হাজার ১৫০ এর ওপরের পজিশনে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ৬ হাজার ৭০০ এর ওপরে লোকপ্রশাসন, ৬ হাজার ৬৫০ এর ওপরে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং ৬ হাজার ৬০০ এর ওপরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন পোষ্য কোটাধারীরা।
৫ হাজারের ওপরে পজিশন করেও তিন ইউনিটের ৩৮ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় শীর্ষস্থানীয় বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তি হয়েছেন। এটিকে রীতিমতো চমকে ওঠার মতো তথ্য বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৯৬ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১০০, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ১১৩, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৯ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯৪ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ গত ৫ বছরে ৪৪২ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
পোষ্য কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, জুলাই বিপ্লবের সূচনা ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে। দেশ সংস্কার হলেও পোষ্য কোটার মতো একটা অযৌক্তিক বিষয় নিয়ে তালবাহানা করছে প্রশাসন। তাদের বক্তব্য শুনে আমরা অবাক হয়েছি। তারা বলছে, পোষ্য কোটা ইস্যুটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আরো অনেক ইস্যু আছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, এটাই আমাদের প্রধান ইস্যু। আজ বিকালের মধ্যে প্রশাসন আমাদের বাতিলের সিদ্ধান্ত না দিলে সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিং করে আন্দোলন কর্মসূচি দেব। পোষ্য কোটার মতো একটা অযৌক্তিক দাবির পক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, তাদেরকে অবশ্যই চিহ্নিত করা হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও ভর্তির সুযোগ পান ৭১ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে সংরক্ষিত পোষ্য (ওয়ার্ড) কোটা, খেলোয়াড় কোটা এবং বিশেষ বিবেচনায় তাঁদের এ ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। নির্ধারিত পাস মার্ক না পাওয়ার কারণে পোষ্য কোটার আসন খালি ছিল।
২০২২ সালের ৭ নভেম্বর ভর্তি উপকমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের সন্তানদের ভর্তির আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ৭১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘আমরা উভয়মুখী চাপের মধ্যে আছি। শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি। শিক্ষকরা পোষ্য কোটাকে কোটা বলতে রাজি নন। এটি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেখছেন। তাই উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে মাঝামাঝি অবস্থানে আসার চেষ্টা করছি।’
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: