কেন এই ধরণের দ্বিচারিতা?

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২১ ১৬:২৩; আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২১ ০১:০১

রাজটাইমস ডেস্ক

২০১৫ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের উপর কর বসিয়েছিল। এর বিপরীতে আমরা আন্দোলন করেছিলাম। ব্যানার ফেস্টুন, লাগাতার মিছিল মিটিং স্লোগান করেছি। সরকার আমাদের আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আমাদের আন্দোলনের মূল বক্তব্য ছিল, শিক্ষা কোন পন্য নয়, এটা বাজারের আলু পোটল বা রিয়েল স্টেট কোম্পানির ব্যবসা নয় যে কর আরোপ করতে হবে। শিক্ষা আমাদের অধিকার।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন তখন আমাদের আন্দোলনের সাথে একমত ছিল। অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনকারীদের সহযোগিতাও করেছে। তবে এই আন্দোলনের রাজনৈতিক আউটপুট হল, এটাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম আন্দোলন যার ফলে তারা সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের সাথে এক কাতারে দাড়াতে সক্ষম হয়। প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে প্রথম প্রতিবাদের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে সেখানে। যার ফলে কিছু ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নসহ কিছু সংগঠনের কার্যক্রমের পথও সুগম হয়।

কিন্ত যে প্রশাসন তাদের নিজের প্রয়োজনে ঐ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিল, যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে গলা মিলিয়েছেন যে শিক্ষা কোনো পন্য নয়, সেই প্রশাসনই পরবর্তীতে বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম করে। গত বছর লকডাউনে শিক্ষার্থীরা যখন বেতন কমানোর দাবি করলো, তখন অনিক, সাদাতসহ বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নামে অনৈতিকভাবে মামলা দিয়ে ও বহিষ্কার করে তাদের উলঙ্গ ব্যবসায়ী মনস্তত্ত্ব প্রকাশ করলো। সুতারং, সরকারের কর আরোপের বিরুদ্ধাচারণের আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টগুলোকেই পরিষ্কার করতে হবে, তারা শিক্ষাব্যবসার পক্ষে না বিপক্ষে। তারা শিক্ষাকে পন্যভাবে নাকি এটা শিক্ষার্থীদের অধিকার।

আবার সরকারকেও পরিষ্কার করতে হবে তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লাভজনক খাত মনে করেন নাকি অলাভজনক। যদিও সরকারিভাবে খাতা-কলমে এটাকে অলাভজনক খাত হিসেবেই দেখানো হয়, তাহলে কেন এই ধরণের দ্বিচারিতা? কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে অবশ্যই দুই পক্ষেরই অবস্থান পরিষ্কার করা উচিৎ।

লেখক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top