ঝাঁজ কমেছে কাঁচা মরিচের ॥ বেড়েছে ডিম আর মাছের দাম

রাজশাহীতে সবজির বাজারে স্বস্তি, আমিষপণ্যে অস্বস্থি

শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৩; আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬ ১৪:০০

সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে রাজশাহীর সবজির বাজারে ফিরেছে স্বস্তি। সরবরাহ বাড়ায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এখন ৪০ টাকার মধ্যেই মিলছে বেশিরভাগ সবজি। কমেছে কাঁচা মরিচের দামও। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাজারের অন্য চিত্র আমিষপণ্যে। বিশেষ করে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত দুই সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে বেড়েছে। গত সপ্তাহে এক ডজন বাদামি ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কোনো কোনো খুচরা দোকানে তা ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বড় বাজারগুলোতে অবশ্য ১৫০ টাকার আশপাশে পাওয়া যাচ্ছে। মাছের বাজারেও বেশিরভাগ প্রজাতির দাম রয়েছে চড়া।

শনিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাস ধরে টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমে গিয়েছিল। ফলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে রাজশাহী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে। তবে কাঁচামরিচ, বেগুন ও ফুলকপির দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা এবং ফুলকপি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৪০ টাকা, করলা ৪০, আলু ২০-২৫, পেঁয়াজ ৪৫-৫০, পটল ৪০, ঢেঁড়স ২৫-৩০, ঝিঙা ৩০-৩৫, চিচিঙ্গা ৩০, বরবটি ৪০, কচুর লতি ৪০, কাঁচা পেঁপে ২৫ এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, ওল ৪০, লাউ ৩০-৩৫ এবং চালকুমড়া প্রতি পিস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাজর ১০০ টাকা ও টমেটো ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১৮০ টাকা, নাটোরের রসুন ৮০ এবং দেশি রসুন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমে উল্টো চিত্র ঃ সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও ডিমের বাজারে দেখা দিয়েছে বিপরীত চিত্র। দুই সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে বাড়ছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত সপ্তাহেও ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে ৪৮ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে হালিতে বেড়েছে ৪ টাকা। সে হিসাবে এক ডজন ডিমে বেড়েছে প্রায় ১২ টাকা। বাজারে দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫-৮০ টাকা, হাঁসের ডিম ৭০, ফার্মের লাল ডিম ৪৮ এবং সাদা ডিম ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মান ও দোকানভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা আসিফ বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম বেড়েছে। ফার্মের লাল ডিম গত সপ্তাহে ৪৪ টাকা হালি বিক্রি হলেও এখন ৪৮ টাকা। দেশি মুরগির ডিম থেকে শুরু করে হাঁসের ডিমসব ধরনের ডিমের দাম বেড়েছে।”

মুরগি স্থিতিশীল, চড়া মাছ ঃ মুরগির বাজারে অবশ্য গত সপ্তাহের তুলনায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০, দেশি মুরগি ৫৫০, সাদা লেয়ার ২৯০, লাল লেয়ার ৩৪০, ফাউমি ৩৩০ এবং হাঁস ২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দাম এখনো বেশ চড়া। রুই ২৭০-৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৭০-২১০, পাঙাশ ১৮০-২০০, চাষের কৈ ২০০-২২০ এবং চাষের শিং ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর টেংরা ৬০০-৭০০, বোয়াল ৬৫০-৮০০, চিংড়ি ৬৫০-৯০০, কোরাল ৭৫০, দেশি কৈ ৮০০-১,০০০ এবং দেশি শিং ১,০০০-১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সবজির বাজারে দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও ডিম ও মাছের চড়া দামে নিত্যদিনের আমিষের ব্যয় কমছে না।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ডিম, মাছ ও মুরগি কেনার হিসাব এখনো বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বাজার করতে আসা হালিমা বেগম বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম আরও কমেছে। কয়েকদিন আগে যে সবজি ৮০-৮৫ টাকায় কিনতে হতো, এখন তা ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কিছুটা স্বস্তি হয়েছে। তবে ডিমের বাজার চড়া।” মাস্টারপাড়ার সবজি বিক্রেতা আকরাম হোসেন বলেন, “রাজশাহীর বাজারে এখন সবজির সরবরাহে ঘাটতি নেই। বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসছে। সরবরাহ বাড়ায় দামও কমেছে।” আরেক বিক্রেতা কালাম বলেন, “এখন ৪০ টাকার মধ্যেই অনেক ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও কিছুটা কমেছে। তবে বাজারভেদে দামের পার্থক্য আছে।

একই সবজি এক বাজারে ৪০ টাকা হলেও অন্য বাজারে ৩০ কিংবা ৬০ টাকা কেজি হতে পারে।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে সবজির বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। তবে ডিম ও অন্যান্য আমিষপণ্যের দাম কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।
 



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top