মৃত শিশুর জন্মহারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২১:০৮; আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২৫ ০৫:২৭

বাংলাদেশে মৃত সন্তান প্রসবের হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছর ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের’ (ইউএন আইজিএমই) প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। খবর ইউএনবির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু ভূমিষ্ট হচ্ছে। এর মানে বছরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশই মৃত জন্ম নিচ্ছে। মৃত সন্তান প্রসবের এই হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
ইউএন আইজিএমইয়ের আরেকটি প্রতিবেদন বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জন্মের পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মারা গেছে এসব শিশু, যাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে ২৮ দিন বয়সের আগে।
১৯৯০ সালের পর থেকে শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে অগ্রগতি অর্জন করলেও বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে মৃত সন্তান প্রসবের হার সর্বোচ্চ বলে চলতি বছরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মা ও নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতি বছর অতিরিক্ত ২৮ হাজার নবজাতককের প্রাণ বাঁচাতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেছেন, প্রতিরোধযোগ্য কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর এক লাখের বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। অপরিণত জন্ম, সন্তান প্রসবকালে জটিলতা, সেপসিস ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের কারণে এসব মৃত্যু ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।
বেঁচে থাকা ও একটি উন্নত জীবন পাওয়া প্রতিটি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। অকালে কিংবা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই যে শিশুগুলো প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের এই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ফারুক আদ্রিয়ান।
শিশু ও মায়ের প্রাণ বাঁচাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফারুক বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাত্রীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তাদের সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারলে প্রতিটি নবজাতক নিরাপদ হাতে জন্মগ্রহণ করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ বলেন, ‘বিগত কয়েক দশকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তা সত্ত্বেও সময়মতো মানসম্মত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে, এটি অবশ্যই দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর পরিচর্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করা সম্ভব।’
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: