রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কিশোর জখম
নিজস্ব প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:৪০; আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৪
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোটবনগ্রাম এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মেলামেশা ও আড্ডা বন্ধ করার জেরে এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
গত ১০ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া বুড়ির বাগান এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত কিশোরের নাম নিরব ইসলাম মুন (১৬)। সে মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়া এলাকার রনির ছেলে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় মুনকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠালে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী তার নানীর বাড়িতে রয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা রনি বাদী হয়ে চন্দ্রিমা থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলো: আলিফ (১৮), বুলবুল (১৬), আরাফাত (১৫), মাহি (১৫), ফাহাদ (১৭), রাকিব (১৬), সৈকত (১৪), রিয়াজ (১৩) ও নিরব (১৬)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সাথে ভুক্তভোগী মুনের গত ৬ মাস ধরে শত্রুতা চলছিল। তাদের সাথে চলাফেরা ও মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়ায় আসামিরা তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ১০ জুলাই সকালে মূল অভিযুক্ত আলিফ মোবাইল ফোনে কল করে মুনকে ছোটবনগ্রাম বাররাস্তার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখান থেকে কথা বলার বাহানায় মুনকে কৌশলে ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়াস্থ বুড়ির বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো চাকু, চাইনিজ কুড়াল, হকি স্টিক, জিআই পাইপ ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মুনের মাথায় কোপ দেওয়া হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য ফাহাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে মারধরের কথা স্বীকার করে বলে, "আহত মুন একটা সময় আমাদের বন্ধু ছিল। কিন্তু সে বর্তমানে আমাদের সঙ্গে চলে না এবং আমাদের শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের বিভিন্ন গালিগালাজ করেছে। তাই তাকে ডেকে এনে পেটানো হয়েছে।"
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, "পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই তারা মুনকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: